এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > নবান্ন থেকে বড় ইঙ্গিত – মেয়াদ বাড়তে চলেছে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদের

নবান্ন থেকে বড় ইঙ্গিত – মেয়াদ বাড়তে চলেছে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদের

কাজে সন্তুষ্ট রাজ্যসরকার – আর তাই, পুরস্কার স্বরূপ তাঁদের কার্যকালের মেয়াদ বাড়তে চলেছে। কথা হচ্ছে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের দুই সদস্য এম এস দ্বিবেদি এবং নাপরাজিত মুখোপাধ্যায়ের। ফের পাঁচ বছরের জন্য তাঁদের স্বপদে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার বলে সূত্রের খবর। নবান্ন সূত্রের খবর থেকে জানা গিয়েছে, মাস তিনেকের মধ্যে কমিশনের দুই সদস্যের কার্যকালের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে।

চলতি বছরের নভেম্বর নাগাদ নাপরাজিতবাবুর কার্যকালের মেয়াদ শেষ হবে, অন্যদিকে জানুয়ারিতে শেষ হওয়ায় কথা এম এস দ্বিবেদির মেয়াদ। রাজ্য সরকার তাঁদের কাজে এতটাই সন্তুষ্ট যে ফের এক দফায় তাঁদের ওই পদে বহাল রাখা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রাথমিকভাবে। মানবাধিকার কমিশন আইন অনু্যায়ী, সদস্যরা সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব গ্রহণ করার দিন থেকে প্রথম পর্যায়ে পাঁচ বছর সেই পদেই বহাল থাকতে পারেন। তবে পরবর্তী সময়ে, রাজ্য সরকারের তাঁদের পুনরায় পাঁচ বছরের জন্য সংশ্লিষ্ট পদে রেখে দেওয়ার অধিকার রয়েছে। অর্থাৎ সদস্যরা দু’দফায় মোট ১০ বছর থাকতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে সদস্যদের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৭০ বছর করা হয়েছে।

তবে, চেয়ারম্যান নিয়োগের নিয়ম একটু আলাদা। হাইকোর্টের বিচারপতিই সাধারণত রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান হয়ে থাকেন। সেক্ষেত্র পদের মেয়াদ থাকে ৫ বছর। বর্তমানে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান পদে আসীন রয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি গিরীশচন্দ্র গুপ্ত। কয়েকবছর আগে কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশোক গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে বড়সড় বিতর্কের জেরে জল দিল্লি পর্যন্তও গড়িয়েছিল। কারণ, সেই সময় ছোটখাটো সমস্যা হলেই মানবাধিকার কমিশন কড়া সুপারিশ করত বলে মনে করা হয়।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

যার জেরে কেন্দ্রেও অভিযোগ পৌঁছাত। এমনকি, এই প্রসঙ্গে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। কমিশনের অধিকাংশ সুপারিশেই রাজ্য সরকারের আপত্তি ছিল। বিষয়টি নিয়ে মন কষাকষিও হয়েছিল ভালোই। এর জেরে মান-অভিমান এমন পর্যায়ে পৌছেছিল যে হঠাৎ করেই তৎকালীন চেয়ারম্যান অশোক গঙ্গোপাধ্যায় ওই পদ থেকে ইস্তফা দেন। তারপরই ওই পদের দায়িত্বে আনা হয় রাজ্য পুলিসের প্রাক্তন ডিজি নাপরাজিত মুখোপাধ্যায়কে। যা নিয়ে রীতিমত ঝড় উঠে গিয়েছিল রাজ্য-রাজনীতিতে।

আরো জানা গিয়েছে, সেইসময় রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নাপরাজিত মুখোপাধ্যায়কে অনেক ঝড়ঝাপ্টার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। বিরোধীদের তরফে প্রশ্ন উঠেছিল – প্রাক্তন এই পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধেই বহু মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা রয়েছে। তিনি কীভাবে সাধারণ মানুষের মানবাধিকার রক্ষা করতে পারবেন? এই প্রশ্নে রীতিমত সরব হয়ে উঠেছিল মানবাধিকার সংগঠন এবং বিরোধী দলগুলি।

তবে তাঁদের জবাব দিতে রাজ্যসরকার এমনকি খোদ মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি দাবিতে জানিয়েছেন, হাইকোর্টের অনেক প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিকেই সেইসময় কমিশনের চেয়ারম্যানের পদে বসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল – কিন্তু দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসেনি। তারপর গত বছর ওই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি গিরীশচন্দ্র গুপ্ত। তবে, অশোক গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে ‘সমস্যা’ হলেও নাপারাজিতবাবু ও এম এস দ্বিবেদিকে নিয়ে রাজ্য সরকার যে ‘খুশি’ – তা এই মেয়াদ বৃদ্ধিতে প্রমাণিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!